বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন
কোরবানিকে কেন্দ্র করে সমাজে বিভিন্ন ধরনের কথা প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে একটি বহুল প্রচলিত কুসংস্কার হলো—জবাইয়ের আগে কোরবানির পশু যদি কাঁদে, ডাক দেয় বা চোখে পানি আসে, তাহলে সেই কোরবানি কবুল হয় না। অনেকেই এটিকে অশুভ লক্ষণ হিসেবে মনে করেন। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।
গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত অনেক মানুষ বিশ্বাস করেন, পশু যদি জবাইয়ের আগে অস্থির হয়ে পড়ে বা কান্নার মতো শব্দ করে, তবে তা অমঙ্গলের ইঙ্গিত। কেউ কেউ মনে করেন, পশু নিজের মৃত্যুর আভাস পেয়ে কাঁদে এবং এমন অবস্থায় কোরবানি গ্রহণযোগ্য হয় না।
কিন্তু এসব ধারণা কুরআন ও হাদিসে প্রমাণিত নয়; বরং এগুলো সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার ও আবেগনির্ভর বিশ্বাস।
ইসলাম কী বলে?
ইসলামে কোরবানি কবুল হওয়ার মূল শর্ত হলো নিয়ত, তাকওয়া এবং শরিয়তসম্মতভাবে কোরবানি সম্পন্ন করা। পশুর কান্না, ডাক বা অস্থির আচরণের সঙ্গে কোরবানির গ্রহণযোগ্যতার কোনো সম্পর্ক নেই।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ
“আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না তাদের গোশত ও রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।” (সূরা হজ, আয়াত: ৩৭)
অর্থাৎ আল্লাহ মানুষের অন্তরের তাকওয়া ও আন্তরিকতাকেই গ্রহণ করেন।
পশু কেন অস্থির হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন পরিবেশ, অপরিচিত মানুষ, ভয়, গরম আবহাওয়া বা পানির অভাবের কারণে পশু স্বাভাবিকভাবেই অস্থির আচরণ করে বা ডাক দেয়। এটি প্রাণীর স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, এর সঙ্গে ধর্মীয় কোনো অশুভ ইঙ্গিত নেই।
জবাইয়ের প্রস্তুতি, ভিড় বা অস্বস্তিকর পরিবেশেও পশু অস্থির হতে পারে। তাই ইসলামে পশুর প্রতি সদয় আচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পশুর প্রতি দয়ার নির্দেশ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
إِنَّ اللهَ كَتَبَ الْإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে ইহসান (দয়া) ফরজ করেছেন।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯৫৫)
হাদিসে আরও বলা হয়েছে, জবাইয়ের সময় ছুরি ধারালো করা এবং পশুকে অযথা কষ্ট না দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। ইসলাম কোরবানির পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা নয়, বরং দয়া ও মানবিকতা শিক্ষা দেয়।
কোরবানির মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ, তাকওয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই কুসংস্কার নয়, ইসলামের সঠিক শিক্ষা অনুসরণ করাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।